
ডেস্ক :
খুলনা সদর থানার ২৩ নং ওয়ার্ডের মুড়িপট্টিএলাকা এখন মাদক কারবার ও সেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। চিনতাই, চুরি ও অসামাজিক কার্যকালাপ এখন এখানকার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। প্রতিবাদ করতে গেলে শারীরিক লঞ্চনার শিকার হতে হয় এখানকার বাড়ির মালিকদের। বাড়ির মিটারের তার চুরি হওয়ার প্রতিবাদ করতে গিয়ে হয়রানির স্বীকার হয়েছেন স্থানীয়খুলনা মহানগরীর সাহেবের কবরখানা মুড়িপট্টি, সামছুর রহমান রোড, স্যার ইকবাল রোড, বেনী বাবু রোড, সিমেট্রি রোড ও মির্জাপুর রোড এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। এ ব্যাপারে ওই এলাকার বাড়ির মালিকরা কেএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত একটি আবেদন দিয়েছেন। আবেদনে তারা উল্লেখ করেছেন একটি সংঘবদ্ধ চক্র এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। আবেদনে তাদের অভিযোগ রয়েছে বাসাবাড়ি, দোকান ও অফিসের বৈদ্যুতিক লাইনের তার কেটে নেওয়া, পানির মিটার, ব্যাটারি, সাইকেল, মোটরসাইকেল, পানির পাম্পসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। পাশাপাশি রাস্তায় পথচারীদের ছিনতাই ও হয়রানির ঘটনাও ঘটছে বলে তারা উল্লেখ করেন।মুড়িপট্টির বাসিন্দা কামাল মোড়ল অভিযোগ করে বলেন, “তার বাড়ির পানির মোটর চুরি হয়েছে। এর আগে তার বাড়ির ভাড়াটিয়াদের মোবাইল ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ ওই দলটি।”একই এলাকার বাসিন্দা জামাল মোড়ল জানান, তার বাড়ির বিদ্যুতের মিটার থেকে তিনবার তার চুরি হয়েছে। তার ভাড়াটিয়া কালামের ভ্যান থেকে ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের চারটি ব্যাটারি চুরি করে নিয়ে যায়। এলাকায় কোন নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা নেই। এ সুযোগে তারা একের পর এক মানুষের মূল্যবান জিনিষ চুরি করে নিচ্ছে।একই এলাকার অপর বাসিন্দা নাসির মোড়ল জানান, আমার ভাড়াটিয়ার ৪ হাজার টাকা মূল্যের এলুমিনিয়ামের গামলা নিয়ে যায়।” ভুক্তোভোগীরা জানান, “থানায় একাধিকবার অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।স্থানীয় বাসিন্দা দ্বীন মুহাম্মাদ দিনু মোড়ল জানান, চলতি মাসের ৮ তারিখে ফজরের নামজের আগে বাড়ির বিদ্যুতের তার কেটে নিয়ে যায় মাহাবুব ওরফে শাফিন নামে এক যুবক। শাফিনকে ঐস্থানে দেখেফালে তারই আপন মেজ ভাই বসির উদ্দিন মোড়ল ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময়। সে মুড়িপট্টি এলাকার এক চিহ্নিত মাদক কারবারি ও মাদকসেবী। তার নেতৃত্বে ওই এলাকায় চুরি সংগঠিত হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন দিনু মোড়লের পুত্র নবাব। পরে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মাদক কারবারী শাফিন তাকে হয়রানি করে এবং বাড়ির সামনে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীলভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।এলাকাবাসী স্থানীয় মাদকসেবী ও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য কেএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
